জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
মোঃ শহর আলী 06.Jul.2019; 08:04:04
চার
পূর্ব পাড়ার আলোকজান বিবির বাস্তবে বয়েস বেশী না হইলেও অভাবের সংসারে সারাটা জীবন আধাপেটা খাইয়া না খাইয়া একেবারে বৃদ্ধা হইয়া গিয়াছে। একমাত্র ছেলে কাওছার রোগা শরীর লইয়াপ ভ্যান রিক্সা চালাইয়া অতিকষ্টে সংসার নির্বাহ করে। আলোকজান বিবি বাড়ির পিছনে বাগানের ভিতর একটি চালার নিচে বসিয়া রাত্রে ধ্যান করেন এবং জীনদের সাথে যোগাযোগ করেন। ফলে তাহার নিকট অনেকেই তাহাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তৈল পড়া পানি পড়া লইতে আসে।
রাতে অন্ধকারে বাগান হইতে ঘরে ফিরিবার সময় পা পিছলাইয়া পড়িয়া ডান পায়ের হাটুতে মারাত্মক চোট লাগিয়াছে। ডাক্তার বলিয়াছে তাহার হাটুর অপারেশন করিতে হইবে। গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাইবে?
এই খবর শুনিবার পর হইতে আলী মিশুকে খুজিয়া বেড়াইতেছে। তাহাকে কোথাও পাওয়া যাইতেছিল না। সন্ধ্যার পর অনিমেশদের বাড়িতে ঢাক ঢোলের আওয়াজ শুনিয়া আলী ইহা নিশ্চিত হইল যে, মিশু আর কোথাও নয়, অনিমেশদের বাড়িতে রহিয়াছে। আজ সেখানে কীর্তন শুরু হইয়াছে।
যাহা ভাবা হইল তাহাই সত্য হইল। অনিমেশদের উঠোনে কীর্তন চলছে। বয়স্করা বসিয়া শুনছে, আর তাহাদেরই মধ্যখানে বসিয়া রহিয়াছে মিশু। আলী বিছানার একধারে বসিয়া পড়িল। অনতি দূরে ঘরের বারন্দায় মেয়েরা বসিয়াছিল। খোলা আকাশের নীচে বসিয়া কীর্তন শুনিয়া আলীর ভালই লাগিতেছিল, কিন্তু মিশুকে তাহার প্রয়োজন ছিল। তাই ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গিয়ে মিশু পিছনে আলতো করিয়া ধাক্কা দিতেই সে পিছনে তাকাইল। আলী ইঙ্গিতে তাহাকে বাহিরে ডাকিয়া আনিল।
বাড়ির বাহিরে গিয়া আলী আলোকজান বিবির দুর্ঘটনা ও ডাক্তারের বলা অপারেশনের কথা বলিল। এতো টাকা জোগাড় করা কাওছারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব কিন্তু মিশুর পক্ষে কিছু করার থাকিতে পারে।
মিশু কহিল, আমি নিজেই ফকির আমি কি করিব!
আলী তা ভালভাবেই জানে। কিন্তু তাহার ভিতর এমন একটি শক্তি দেখিতে পাওয়াা যায় যে, আলীর কেবল ইহাই মনে হয় মিশু সব পারে।
হ্যা মিমু সব পারে। সব তাকে পারিতেই হইবে। সমাজের সবাই সব পারিবে কেন? টাকা থাকিলেই মানুষ সকল সমস্যার সমাধান করিতে পারে না। আবার কেবল জ্ঞান থাকিলেও চলে না। টাকা এবং জ্ঞানের চাইতেও একটি জিনিস মানুষের থাকা চাই। আর তা হলো ইচ্ছা। মিশুর টাকা নাই, অতো জ্ঞানও নাই কিন্তু ইচ্ছা আছে। সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা। তাই সে পারে এবং পারিবে।আরও পড়ুন : আজকে না হয় নাই হল আরও পড়ুন : জল ছাড়া বৃষ্টি
আলী আর মিশু আলাপ করিতে করিতে বাজারের দিকে যাইতে লাগিল। পথিমধ্যে দুই চারিজন মুরুব্বির সাথে দেখা হইলে তাহাদেরকে সঙ্গে করিয়া লইয়া বাজারে প্রবেশ করিল। মসজিদের পাশের চায়ের দোকানটিতে গ্রামের গণমান্যদের আড্ডা। সেইখানে ঢুকিয়া সালাম বিনিময় করিয়া বসিয়া পড়িল। একজন জিজ্ঞাসা করিল, মিশু কি কিছু বলিতে চাও বাবা?
মিশু শুরু করিল। মানুষের শরীরের হাতে ব্যাথা হইলে মাথায় ব্যাথা পায়, মাথায় ব্যাথা পাইলে পায়ে ব্যাথা পায়, এই গ্রাম ও গ্রামের মানুষ নিয়ে যে সমাজ তা একটি শরীরের মতো। এই শরীরের মুসলিম, হিন্দু, ধনী, গরীব, নারী, পুরুষ, মনিব, চাকর সবাই একসূত্রে গাথা।
সবাই একবাক্যে ইহা সবই স্বীকার করিয়া আসল কথা বলিবার জন্য পীড়াপিড়ি করিতে লাগিল। মিশু সমস্ত বিস্তারিত বলিয়া সবার নিকট অনুরোধ করিল যে, যাহা কাওছারের জন্য একটি বিরাট বোঝা তাহা সমাজের নিকট নড়িও নয়। কাজেই সবাই মিলিয়া হাত লাগাইলে আগামীকাল আলোকজান বিবির হাটুর অপারেশটা হইতে পারে।
কথাটা সবার মনে ধরিল। রাতেই অর্থ সংগ্রহ শুরু হইল।
(চলবে)