জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
মোঃ শহর আলী 04.Jul.2019; 04:51:43
দুই
মিশু রাত বারোটা অবধি পড়ালেখা করিয়া, ঘরের দরজা টানিয়া দিয়া বাড়ির বাহির হইয়া গেল। গ্রামের মধ্যপাড়ার আলীদের বাড়ির পিছনে গিয়া শিয়ালের স্বরে হুক্কা হুয়া, হুয়া করিয়া ডাকিতে লাগিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আলী বাহিরে আসিয়া হাজির হইলে দুইজনে বিলের দিকে হাটিতে লাগিল।
আসল নাম মোশরারফ হোসেন, গ্রামের লোকেরা সংক্ষিপ্ত করিয়া মিশু বলিয়াই ডাকে। বাবা গরীব। তাল গাছ, খেজুর গাছ হইতে রস নামাইয়া সেই রস জাল দিয়া গুড় তৈরি করিয়া বাজারে বিক্রি করিয়া তাদের সংসার চলিতো। মিশু নিজে স্কুল বন্ধের দিন পরের জমিতে মজুর খাটিয়া সংসারে সামান্য অবদান রাখিতো। এমনি করিয়া এসএসসি পাশ করিয়া এবার সে আলীর সাথে কলেজে উঠিয়াছে।
মিশু অনেক ভাল বাঁশি বাজাইতে পারে, আলী তাই তার ভক্ত। শীতকালে ক্ষেতের ধান কাটিয়া নিলেও খড় পড়িয়া ছিল জমিতে, তাতে বসিয়াই বাঁশি বাজার মিশু। নানা প্রকার গানের সুর তোলে সে। মাঝে মাঝে দুইজনে গল্প জুড়িয়া দেয়। জীবনের গল্প, সৃষ্টি রহস্য, জীবনের মানে, আত্ম ও পরমাত্মার বিষয়। এই বিশাল পৃথিবীতে আলো ছড়াইতেছে চাঁদ। তার চোখ দিয়ে গোটা পৃথিবীর অর্ধেকাংশ সে দেখিতে পাইতেছে। মিশু চাঁদের বুকে খুঁজে বেড়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দৃশ্য, সেখানকার মানুষদের। কিন্তু কিছুই দেখা যায় না। সে বলে যদি মানুষ না হইয়া চাঁদ হইতাম তাহা হইলে এক দৃষ্টিতেই গোটা পৃথিবী দেখিতে পারিতাম। হায়রে মানুষ। এই বিলের মধ্যিখানে বসিয়া থাকিয়া গ্রামের ওপাশে কি হইতেছে তাহাও দেখিতে পাই না। চাঁদ না হোক যদি বাজ পাখি হইয়া জন্মাইতাম তবুও সারাদেশ ঘুরিয়া বেড়াইতে পারিতাম বিনা পয়সায়।
আলী মুগ্ধ হইয়া কথা গুলো শুনে। এই রাথে এখানে এসে কি পাও মিশু জিজ্ঞেস করে আলী। দিনেও তো আসা যেতো।
মিশু বলে, দিনে মানুষ থাকে এইখানে, থাকে মানুষের গবাদি পশু। এইগুলা সবই মানব সভ্যতার সদস্য। এখন এই জোৎস্না রাতে সভ্যতার আলো বিলে আসে না। এইখানে চাঁদের রাজত্ব। এই ঘাস, কলমি লতা, এই রাত জাগা পাখি সবাই প্রকৃতির অংশ। আমরাও প্রকৃতির অংশ। আমার বাঁশের বাঁশি প্রকৃতির সদস্যা। আর ইহার সুরটাও প্রকৃতির সুর যাহা রাত্রির গভীরতাকে উৎরাইয়া চারিদেকে বহুদূর পর্যন্ত চলিয়া যায়। প্রকৃতিতে হারিয়ে যাই মানব সভ্যতা ছাড়িয়া। গায়ের জামাটা, লুঙ্গিটা খুলিয়া উলঙ্গ হইয়া এই জনমানবহীন বিলে শিয়ালের সাথে দোস্তি করিতে পারিলে কতইনা ভাল লাগিতো। হৃদয়ের গভীরে মানব সভ্যতার সংস্কারের যে ছিটে ফোটা বহন করিয়া বেড়াই তাহাকে কিছুতেই গলা ধাক্কা দিয়া বাহির করিয়া ফেলিতে পারি না বলিয়াই শরীরের পোশাকের আবরণটা জড়াইয়া থাকে। উহাই আমার কলঙ্ক, ঠিক চাঁদের বুকের মতো। ইহাতে কিছুই যায় আসে না, মানব সভ্যতা ছাড়িলেও কখনো বন্য জীব হওয়ার সম্ভন না বিধায়, এই মধ্যরাত্রে তাদের মাঝে আসিয়া হৃদয়ে তাহার স্বাদ গ্রহণ করি মাত্র। তবে যতক্ষণ এখানে অবস্থান করিব প্রকৃতির সদস্য হইয়াই থাকিব এবং তাহাদের মতোই আচরণ করিব।আরও পড়ুন : আজকে না হয় নাই হল আরও পড়ুন : জল ছাড়া বৃষ্টি