সর্বশেষ সমাচার

ক্রসফায়ার (ছোট গল্প)

.$posted_by. মোঃ শহর আলী 31.May.2019; 11:59:11


লেখক-  এম এস জামান
প্রথম প্রকাশ- ৩০ মে ২০১৯, ডেল্টাটাইমস্

দক্ষিণা বাতাসে শরীর এলিয়ে মনের সুখে সময় কাটায় সবুর।বাড়ির ছাদের উপরে থাকেন ।ভাড়া বাসায় । সুন্দর মনোরম একটা আবহে সুখের বসতি তার । চারপাশে আছে হরেক রকম গাছপালা যদিও ঢাকা শহর। বেশ কিছু ফুল-ফলের গাছ । আছে একটি কদম গাছও ।শরতে কদম ফুল বেশ ভালই লাগে সবুরের। পূর্ণিমার রাতে যোগ হয় জোছনার আদর মাখা আলো।বাড়ির সামনে আছে বিশাল মাঠ লেক।একপ্রকার আবাসিক বাস্তবে কিন্তু ভিন্ন। এলাকায় চৌধুরী বাড়ি নামে পরিচিত যদিও মালিক অপরিচিত।একটা রহস্যময়ী চরিত্র।সবুর একটু খোলামেলা পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত। জন্ম ঢাকায় যদিও তার কোন পরিচয় নেই। বলা যায় বেজন্মা।তবে পড়ালেখা শেষ করেছে । ভবঘুরে টাইপের । ঘুরেই সময় যায় তার।
কালচারাল জগতে তার একটু আনাগোনা বেশি।
বাবলু সাহেব সৌদি গেলেন ওমরাহ পালনে। সেখানে তার সাথে দেখা হয় এলাকার আজিজের লগে। বাবলু সাহেব বলেন কি আজিজ্যা তুই কি করিস এখানে । আজিজ বলে লিডার দেশে তো কিছু করতে পারলাম না তাই বিদেশের মাটিতে আসছি আর কি । বাবুল বলে দেশে মিয়া টাকা উড়ে আর তুমি বল কিছু করতে পারলাম না। তায় শোন আমি ( বাবুল) ওমরাহ হজ্জে আসছি । তুই বাড়ি চলে আসবি । আমি ( বাবুল) তোকে ব্যবসা ধরিয়ে দিব তুই আমার হয়ে কাজ করবি। মানে পারসেন্ট পাবি । আজিজ বলল কিসের ব্যবসা লিডার । বাবুল বলল আগে আয় তারপর দেখি কি করা যায় । শোন টাকায় লাল হয়ে যাবি। আজিজ বলল জী লিডার বলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল । চামবাজি ভালই বোঝে ।
লিডার দেশে আসার কিছুদিন পরেই আজিজ উপস্থিত তার বাসায়। লিডার বলে কাল কে আয়। পরেরদিন আজিজ উপস্থিত।
লিডার বাবুল নজরু(ওসি) কে বলে শোন ওসি সাহেব ও আজিজ আমাদের হয়ে কাজ করবে। ওসির সাথে আজিজ নিয়মিত দেখাশুনা করে জেনে নেয় কিসের ব্যবসা কিভাবে করবে?
আজিজ জানল দুই নম্বরই ব্যবসা মানে ডাইল বাবা হিরোর ব্যবসা।
হিরোইন খেয়ে মানুষ নায়ক হয় তাই একে হিরো বলে।
আজিজ বলল ওসি স্যার আমি এ ব্যবসা করব না । এতে তো আমাগো জাতি নষ্ট হয়ে যাবে!
ওসি বলে আরে মিয়া শোন আগে নিজে বাঁচ তারপরে জাতি দেইখ্যো।
এই যে দেখ না বাবুল স্যার ( এমপি)এত টাকা পয়সা পায় কই ? মাসে মাসে আমি (ওসি) তারে কোটি কোটি টাকা দেই । সেই টাকা দিয়েই গাড়ি বাড়ি সব করেছে । দলকে টাকা দেয় বড় পদ পেতে।
আজিজ ভেবে চিন্তে বলল ঠিক আছে আমি করব তয় ওসি স্যার যদি পুলিশ কিছু কয়? ওসি বল আরে বেটা আমরা সবাই এই লাইনের।
আশ্বস্ত হল আজিজ এবার সে মনোযোগ দিল বাবার ব্যবসায়।আস্তে আস্তে টাকা পয়সা হল । গাড়ি বাড়ি নারী সব তার নিত্য সঙ্গী।ঘন ঘন বিদেশ সফর । লিডারের সাথে ওমরাহ পালন।
বিদেশী নায়িকা তার বেড পার্টনার হতে লাগল।
সাদা পান্জাবী পায়জামা পরে মাথায় টুপি ।
আগাগোড়াই ভদ্রলোক । লিডার তার নাম পাল্টে রাখল আব্দুল আজিজ চৌধুরী।তখন বাড়ির নাম রাখল চৌধুরি বাড়ি । এখন আজিজের কোন অভাব নেই । নতুন নতুন টাকার মালিক হওয়ায় সব আত্মীয়ের মধ্যমণি। বাবা-মাও হল। নতুন করে। বাঙালির তো আর তোষামোদে হয় না এমন কোন কিছু নেই।

লিডার বলে শোনো চৌধুরি সাহেব সামনে নির্বাচন করতে হবে তবে মনোনয়ন পেতে টাকা লাগবে অনেক ।  চৌধুরি সাহেব বলে বস সমস্যা নাইকক্যা।

নির্বাচন সামনে রেখে সরকার জনপ্রিয়তায় নেমেছে। কি করা যায় তাহলে ? মাদক নির্মুল করতে হবে। দলীয় হেড মাস্টারের বুদ্ধি।

কর তালিকা মাদক ফাদারদের। করা হল তালিকা।
নাম চলে আসল সরকারি কর্মকর্তা সরাকারি দল ও বিরোধীদের। ওসি নজরুল ও আজিজের নামও আছে পত্রিকায়।
তাদের চিন্তা হচ্ছে কিভাবে তারা এই তালিকা থেকে বের হবে।
লিডার বাবুল , আজিজ ও নজরুল বসল সমস্যা থেকেমুক্তি পেতে।


আরও পড়ুন : আজকে না হয় নাই হল
আরও পড়ুন : জল ছাড়া বৃষ্টি

রমযান মাস চলে । সবুর সারারাতই জাগে।
সবুর ক্ষুধার্ত তাই সে আজিজের বাসায় গিয়ে চুরি করে ভাত খায় ।
এরি মধ্যে মিনির( বিড়াল ) ডাকে ঘুম ভেঙে যায়
শাহিনার । সে বুঝতে পারে কেউ তাদের বাসায় এসেছে । আজিজ ও শাহিনা মিলে সবুরকে ধরে ।
আজিজ পুলিশকে ফোন করে বললে পুলিশ এসে সবুরকে থানায় নিয়ে যায়।
ওসি সবুরকে রিমান্ডে নিয়ে রাজি করায় যে সে মাদকের সাথে জড়িত ।
পরের দিন পত্রিকায় খবর আসে বাবুল (এমপি)
আজিজ সাহেবের ও ওসির প্রচেষ্টায় এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত।
সাংবাদিক সম্মেলন করে বাবুল লিডার আজিজ ও ওসি বলে আমাদের চেষ্টায় মাদক ব্যবসায়ী কুপোকাত।
তারা নিজেদের সাধু পুরুষ দাবি করে।
ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে নিহতের পেটে ভাত পাওয়া গেছে এবং তার শরীরে কোন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য নেই । তাকে খুব কাছ থেক
 গুলি করে খুন করা হয়েছে।
 খবর পত্রিকায় বেরোলে জনতা তীব্র প্রতিবাদ করে।
তিনদিন পর সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্খার কর্মকর্তারা একটি চিরকুট পায়।
চিরকুটের ভাষা নিম্নরূপ :

প্রিয় সবিতা,
অনেকদিন হল আমার আকাশে তুমি আর জ্বলো না। আমি ঘোর আঁধার সঙ্গে নিয়ে আছি।
শরতের পূর্ণিমায় জোছনা হয়ে বস না কাছে। ভুলে গেছি শিউলি ফুলের ঘ্রাণ। হাসে না কাশফুল দোলে না মোর চিত্ত। ধূসর জীবন নিয়ে আছি নিত্য।
এলোমেলো বাতাসে তোমার চুলের আঁচড় আজ বড্ড বেশি আবেগী করছে আমায় ।
তোমার অধর পরশ মনে পড়ে
আমি স্মৃতি কাতর ।
তোমার যৌবন সাগরে
অবিরাম গোসল করেছি ক্লান্তিবিহীন।
স্মৃতির রাজ্যে আমি একাকী রাজা রাণিবিহীন।
স্মৃতিরা তোমার মত বুদ্ধিদীপ্ত না বলেই ওরা আমার সঙ্গী হয়ে জ্বলে।
তোমার হাতের সুস্বাদু রান্না খেয়ে আমার লিকলিকে শরীর হয়েছিল আষাঢ়ে কদম গাছ। মুখখানা ছিল চন্দ্রবদন।
তিন বছর তোমার যত্নের অভাবে আমার শরীর যশোরের মহিষ।
তোমার সরকারি চাকরি আর আমার বেজন্মাই আমার ভালবাসার কাল হল।
 চলছে পবিত্র রমযান মাস । সেহরি না খেয়েই হয় সিয়াম সাধনা।
আজ সবে-কদর এই দিনে তোমার হালুয়া রুটি আর গরুর মাংস আমার খেতে খুব মন চাচ্ছে। আমি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি ঘ্রাণ শক্তি অনুভব করে ।
আমি চললাম গরুর মাংস হালুয়া রুটি খেতে ।

ইতি
সবুর।

এ বিষয়ে আরো খবর