সর্বশেষ সমাচার

আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান শেখ হাসিনা

.$posted_by. মোঃ শহর আলী 14.Apr.2019; 02:05:24

মায়ানমারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আজ ডিফেন্স মিনিস্ট্রিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু মায়ানমার আমাদের নিকটবর্তী প্রতিবেশী,  তাই আমরা কখনো তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব জড়াব না; বরং আমাদের আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক কারণে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এটি বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর ব্যাপার যে আমরা কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিয়েছি এবং তাদেরকে রক্ষা করতে পেরেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মায়ানমারের সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়াইনি। আমরা আলোচনা করেছি এবং তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের উদ্দেশ্য মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি আমাদের সব সময়ই থাকতে হবে। যাতে আমরা আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দিতে পারি এবং আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি।’

যুদ্ধ না চাইলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমরা সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসৃত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’


আরও পড়ুন : সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
আরও পড়ুন : ১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা

প্রাকৃতিক অথবা মানবিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করার ক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারি। আমরা সেটি প্রমাণ করেছি।’

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি দিয়ে উন্নত করা হয়েছে।

সমুদ্রসীমান্ত বিরোধ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারত ও মায়ানমারের বিরুদ্ধে মামলায় জয় পাওয়াটা কঠিন কাজ ছিল।

সূত্র: যুগশঙ্খ

এ বিষয়ে আরো খবর