জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
মোঃ শহর আলী 07.Jan.2019; 08:58:52
যুগান্তর : চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন নজির স্থাপন করলেন তিনি। সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে নিয়োগের বিষয়টি উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রী শপথ নেয়ার পর রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এরপর নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। এর মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর শেখ হাসিনা তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন মূলত নতুনদের নিয়ে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ায় ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গঠিত পুরনো সরকারের দায়িত্ব শেষ হল। প্রধানমন্ত্রী পরে নতুন করে তার উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন।
শপথ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩টা ১৪ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন। বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দরবার হলে আসেন। এ সময় বিউগলে সুর বেজে ওঠে। রাষ্ট্রপতি আসার পর ৩টা ৩৪ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩টা ৩৯ মিনিটে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। শপথ শেষে ৩টা ৪০ মিনিটে উভয় শপথপত্রে সই করেন তিনি।
শপথ নেয়ার পর তার ছোট বোন শেখ রেহানা বড় বোন শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের নতুন সরকারের সূচনায় পরস্পরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন জাতির পিতার দুই কন্যা। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে বুকে জড়িয়ে নেন, গালে চুমু খান। পরে হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসন গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।
শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম সারিতে বসেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে তাদের জন্য ছিল আলাদা আসন। শেখ রেহানা ছাড়াও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক সস্ত্রীক এসেছিলেন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সিইসি কেএম নুরুল হুদাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
একাদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং তার স্ত্রী বিগত সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তবে জোট শরিকদের মধ্যে বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম উপস্থিত ছিলেন দরবার হলে। যদিও এবারই প্রথম শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই মেলেনি মহাজোট শরিকদের। বিগত সরকারগুলোয় প্রতিবারই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করলেও এবার শুধু নিজের দল আওয়ামী লীগের নেতাদের সরকার পরিচালনায় রেখেছেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনের মাঠে চা-চক্রে যোগ দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলেন।
রোববার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের টেলিফোনে জানানো হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এদিন বিকালে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নাম ও তাদের দফতরের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তালিকা অনুযায়ী নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে গাড়ি যায়। ওই গাড়িতে চড়ে মন্ত্রীরা সোমবার বঙ্গভবনে শপথ নিতে যান।
কাল টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে কাল বুধবার টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে যাবেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা।
সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন তিনি। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। তখন সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করবে।
আজ ধানমণ্ডি ৩২ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নতুন মন্ত্রিসভার : নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমণ্ডি ৩২-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।আরও পড়ুন : সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত! আরও পড়ুন : ১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জোটগতভাবে তারা পেয়েছে ২৮৮ আসন। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সব মিলিয়ে মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। একইদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওইদিনই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। এবারের সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হলে তিনি বাংলাদেশে ২০ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনাকারী প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি পাবেন। এটা হবে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি রেকর্ড। এর আগে বাংলাদেশে যারা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কেউই চারবারের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিজয়ী হলে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথগ্রহণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এর আগে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনের পরই দেশ থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরের ৬ বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের নির্বাসিত জীবন কাটে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের মাথায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।