জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
মোঃ শহর আলী 24.Jul.2019; 09:51:30
বাংলাদেশে বসবাস করেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারিনী প্রিয়া সাহার পক্ষে অনেককেই কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। ফেইসবুকে তাদের অনেককেই সরব দেখা যায়। এর ভবিষ্যত ফল নিয়ে সাধারণ মানুষ বিচলিত। অসাম্প্রদায়িক সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ বাংলাদেশের সাধারণ সংখ্যালঘুরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন। একই সাথে উদ্বিগ্ন আসামে নিবন্ধিত না হওয়া চল্লিশ লক্ষ বাংলাভাষী মানুষ। প্রিয়া সাহা কি প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘুদের কল্যাণ চান নাকি উপমহাদেশে আবারো সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের বৃথা চেষ্টা করছেন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাতের সময় প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ ও নিপীড়নের কথা তুলে ধরে সাহায্য চাইলে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শুরুতে সরকারের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আসার পর আর কাউকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
প্রিয়া সাহার ওই বক্তব্যে সরকার বিব্রত কিনা এমন প্রশ্নে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারা একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আর কিছুই ভাবছেন না।
"এই ধরণের ঘটনা তো দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়ই। কিন্তু এর আগেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অতীতে অনেকেই অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা প্রতিবারই মোকাবিলা করেছি।"
"এখন প্রিয়া সাহা কি বলল না বলল, এটা নিয়ে আমার মনে হয়না খুব বেশি মাথা ঘামানোর কিছু আছে। তার এইসব কথা বর্তমান সরকারের সেন্টিমেন্টের সাথে যায়না। তাই এ নিয়ে বিব্রত বা বিচলিত হওয়ার কিছু নাই।"
আওয়ামী লীগ দাবি করে একমাত্র তারাই সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি তৎপর এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার এই বক্তব্য কি দলকে অস্বস্তির মুখে ফেলেছে?আরও পড়ুন : সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত! আরও পড়ুন : ১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এটাতে দল কোন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে আমি মনে করিনা। এমন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে ... প্রিয়া সাহা যা বলেছেন মিথ্যা বলেছেন, দেশকে ছোট করেছেন।"
তবে ভেতরে ভেতরে সরকার এই ঘটনায় যথেষ্ট বিব্রত বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জুবেয়দা নাসরিন মনে করেন, ক্ষমতাসীন দল বিশ্বব্যাপী নিজেদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসলেও একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্য অবশ্যই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
আন্তর্জাতিক নজর থাকায় সরকার চাইলেও এ বিষয়ে কঠোর হতে পারছেনা বলে জানান মিজ নাসরিন।
"এখন যদি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে তিনি যাদের কাছে এই অভিযোগ করেছেন, সেই দেশের কাছে আসলেও মনে হতে পারে যে এদেশে সংখ্যালঘুরা হয়তো সত্যিই নিপীড়নের শিকার।"
"আবার সরকার প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে এখানে সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। এটা বাংলাদেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক অবস্থানকেও ইঙ্গিত করে।"
সূত্র: বিবিসি