জঙ্গিদের নিশানায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি: টুঙ্গিপাড়ায় ঝটিকা অভিযানের মহাপরিকল্পনা
সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘কিশোর গ্যাং বলল আওয়ামীলীগ
এই আন্দোলন এখন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন
১০ শতাংশ ভোটার কমাতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন: কেঁদে কেঁদে মিজান বললেন, ‘জাতির কাছে বিচার দিতে এসেছি’
এডিসি হারুনের পরিবার বিএনপি-জামায়াত: রাব্বানী
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরগরম হয়ে ভারতের গণমাধ্যম
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল
মোঃ শহর আলী 01.Jun.2019; 04:11:33
গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা। মাথা সবসময়ই ঠান্ডা রাখতে হবে। কারণ হঠাৎ উত্তেজিত হলে বিশেষ কিছু নার্ভ এবং কিছু অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি উদ্দীপিত হয়ে পড়ে। যাদের প্রভাবে রক্তচাপ এবং হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে হার্টের ওপর চাপ পড়ে এবং হার্টে অক্সিজেন সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যায়। আর যাঁদের ইতিমধ্যে হার্টের অসুখ আগে থেকেই বেঁধে আছে, তাঁদের অ্যানজাইনার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর যাঁদের হার্ট ফেলিওর আছে, অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে হার্ট যথাযথ পাম্প করতে পারছে না, সেক্ষেত্রে পাম্প ফেলিওর বৃদ্ধি পেয়ে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বুক ধড়ফড় করার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
মনে রাখবেন, হার্টের অসুখ থাক আর নাই থাক, উত্তেজিত হলে আমাদের হার্টের গতি বেড়ে যায়। ফলে হার্টের অনিয়মিত ছন্দপতন ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজনার বশে হার্টের রেট বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা গিয়েছে। এমনকী কিছু কিছু ব্যক্তির করোনারি আর্টারিতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উপসর্গহীন ব্লক থাকে। এই ধরনের মানুষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়লে তখন রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে এবং হৃৎপিণ্ডের ছন্দপতন হওয়ার কারণে ব্লক ফেটে গিয়ে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
গ্রীষ্মকালে মানুষের উত্তেজনা বাড়ে। আসলে এই সময় পরিবেশ অসহনীয় পড়ে। তাই আমাদের বিরক্তিবোধ বাড়ে। আর যত বেশি মেজাজ খারাপ হয়, হৃৎস্পন্দনের গতিও অনিয়মিত হতে শুরু করে। তার ওপর আবার উত্তেজিত হয়ে পড়লে বা রেগে গেলে উপরিক্ত উপসর্গগুলি দেখা যেতে পারে। এই কারণেই গ্রীষ্মকালে সকলের সাবধানে থাকা দরকার।
উত্তেজনা বাড়লে রক্তচাপও বাড়ে। ফলে আমাদের রক্তবাহী নালীগুলির দেওয়ালে চাপ পড়ে ও ধমনির দেওয়ালগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ত্বরাণ্বিত হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তবাহী নালিকার দেওয়ালে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমে রক্তবাহী নালি সরু এবং অনমনীয় হওয়া) প্রক্রিয়া। এমনকী রক্তবাহী নালির কোনও কোনও জায়গায় রক্তক্ষরণও হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের জৈবরাসায়নিক পরিবর্তনের জন্য ধমনির মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যেমন ব্রেনে ইক্সিমিক স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া রক্তচাপ হঠাৎ মারাত্মক রকম বেড়ে গেলে হাইপারটেনসিভ এনকেপালোপ্যাথি নামে একদরনের স্ট্রোক হতে পারে। আবার কিছু কিছু লোকের শিরায় ছোট ছোট অ্যানিউরিজম (রক্তবাহী নালীর স্ফীতি) থাকে। সেই অ্যানিউরিজম র্যাপচার (ফেটে যাওয়া) হলে ব্রেন হেমারেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রক্তচাপ বেড়ে গেলে আশঙ্কা থাকে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও, এমনকী চোখেও রেটিনাল স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার পায়ের রক্তবাহী নালিকারও ক্ষতি হওয়ার ভয় থেকে যায়।
গ্রীষ্মকালে উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অস্বস্তি একটু বেশি থাকে। তাই এই সময়ে জল বেশি করে খাবেন, সঙ্গে জল নিয়ে ঘুরুন, বাইরে রোদে বেরতে হলে মাথায় ছাতা দিয়ে বেরন। অন্যান্য সাবধানতাও অবলম্বন করুন। তবে মোটকথা হল, শুধু গ্রীষ্মকাল নয়, সুস্থ থাকতে হলে সারাবছরই মাথা ঠান্ডা রাখা দরকার। আর নিজের মধ্যে সংযম রাখা দরকার।
উত্তেজিত হয়ে পড়লে, নিজেকে বলুন— ‘আমি রেগে যাব না। কোনও খারাপ কথা বলব না। খারাপ কিছু করবও না। করলে আমারই ক্ষতি।’ এভাবে বারবার নিজের মনের মধ্যে কথাগুলি আউড়ে গেলে উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়ে যাবে।
শরীরের সঙ্গে মনের যোগ আছে। তাই, শারীরিক ভোগান্তি প্রভাব ফেলে মানসিক স্থিরতার ক্ষেত্রেও। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আরামদায়ক আবহাওয়ায় আমাদের মেজাজ ফুরফুরে থাকে। আর চরম আবহাওয়ায় মানুষের সুখের অনুভূতি কম হয়। এই কারণেই বসন্তকালে আমাদের মেজাজ থাকে শরিফ আর প্রবল গ্রীষ্মে মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে যায়।
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, সত্যিসত্যিই কি আবহাওয়ার তারতম্যে মানুষের মন মেজাজ ভালো বা খারাপ হওয়া নির্ভর করে? উত্তর হল হ্যাঁ, আবহাওয়ার সঙ্গে মানসিক স্থিরতার যোগ রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এদেশে গ্রীষ্মকালে সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারে রোগীর ভিড় বেড়ে যায়। কারণ আমাদের দেশ হল গ্রীষ্মপ্রধান। ফলে তাপমাত্রা বাড়লে আমাদের শারীরিক কষ্ট হয় বেশি। শারীরিক কষ্ট থেকে মানসিক যন্ত্রণায় পড়া আশ্চর্য নয়।
অন্যদিকে বাইরের শীতপ্রধান দেশে, উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের কথা বলা যায়, সেখানে শীতকালে অবসাদে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। বরং গ্রীষ্মকালে ওদেশের লোক আরাম বোধ করেন। শরীর ও মন ভালো থাকে। শীতকালে শীতপ্রধান দেশগুলিতে বাতের ব্যথা, হাতেপায়ে যন্ত্রণা বাড়ে। তুলনায় আমাদের দেশে শীতকালে বাতের যন্ত্রণায় ভোগা রোগীর সংখ্যা কম। অবশ্য মারাত্মক ঠান্ডা পড়লে আলাদা কথা!
এছাড়া বেশ কিছু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এদেশে, গ্রীষ্মকালে মানুষের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব বেড়ে যায়। একবার মাথায় রাগ চড়ে গেলে তারপর আর নিজেকে সামলাতে পারা যায় না। মনে হয় এখনই হেস্তনেস্ত করে ফেলা দরকার। এই কারণে গ্রীষ্মকালে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতির ঘটনা বাড়ে!
এছাড়া গ্রীষ্মকালে প্রবল ঘাম হয়। শরীরে জলের মাত্রা কমে। তাই ডিহাইড্রেশন হওয়ার ভয় রয়ে যায়। ডিহাইড্রেশন মানেই পেটের গণ্ডগোল। আর কে না জানে, পেট ভালো না থাকলে মেজাজও তিরিক্ষি হয়ে থাকে!
খেয়াল করলে দেখবেন, গরমে অনেকেরই মাথা যন্ত্রণার সমস্যা বাড়ে। আর মাথা যন্ত্রণা হলে মেজাজের বারোটা বেজে যায়। সহ্যশক্তি কমে যায়। সামান্য কথায় মানুষ রেগে যান।
তাই গ্রীষ্মকালে অকারণে উত্তেজিত হতে না চাইলে কতকগুলো নিয়ম মেনে চলুন—
গ্রীষ্মে অন্তত দু’বার স্নান করুন। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে স্নান করুন। ভালো ঘুম হবে। মেজাজও ভালো থাকবে।
এসি ব্যবহারে সতর্ক হন। চট করে এসি থেকে রোদে বা রোদ থেকে এসিতে ঢুকবেন না। আগে কোনও একটা ছায়াপূর্ণ জায়গায় দাঁড়ান। শরীরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিক। তারপর এসিতে ঢুকুন বা রোদে বেরন। ঘরের মধ্যে এসির তাপমাত্রা ২২-২৬ ডিগ্রির নীচে রাখবেন না। বাইরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি আর আপনি ১৬ ডিগ্রিতে বাস করলে শরীরে তার প্রভাব পড়বেই।
সবসময় ঘরে এসি চালিয়ে বসে থাকবেন না। দিনের মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘরের জানলা দরজা খুলে রাখুন। কারণ এসি থেকে জীবাণু সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। ঘরে হাওয়া বাতাস চলাচল করলে জীবাণু সংক্রমণ কম হবে।
রোদে আধঘণ্টার বেশি থাকবেন না। বেশি সময় বাইরে কাটাতে হলে সঠিক ব্যবস্থা নিন। ছাতা, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
অন্যান্য সময় ৩লিটার জল পান করলে চলে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের। তবে গ্রীষ্মের সময় একলিটার জল বেশি পান করতে হবে। যেখানেই যান সঙ্গে অতিঅবশ্যই জল নিয়ে যাবেন। বিকেল বেলার স্ন্যাকস-এ কখনই মারাত্মক তেলে ভাজাভুজি খাবেন না। গ্রীষ্মকালে মেটাবলিক রেট-এর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এই সময় ভাজাভুজি বেশি খেলে শরীরে অস্বস্তি বাড়বে। লো ক্যালরি যুক্ত খাদ্য খান। এমন খাবার কান যে খাবারে জলের মাত্রা বেশি আছে। উদাহরণ হিসেবে তরমুজ, শসার কথা বলা যায়।
উত্তেজিত হয়ে পড়লে কীভাবে সামলাবেন?
শুধু গ্রীষ্মকাল বলে নয়। বছরের যে কোনও সময়েই মেজাজ ঠান্ডা রেখে কাজ করতে হবে। তাই উত্তেজনা সবসময়েই পরিহার করা দরকার। কারণ উত্তেজনার বশেই আমরা ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। তাই মাথা গরম হতে শুরু করলে, নিজেকে সময় দিন। হুট করে প্রতিক্রিয়া দিতে যাবেন না। ধরা যাক কেউ আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছ। বিরুদ্ধ বাক্য মানেই সঙ্গে সঙ্গে তাকে এক চড় মেরে দিতে হবে এমন নয়। বরং পাঁচ মিনিট সময় দিন। মনে মনে ভাবুন, আরও পাঁচ মিনিট যাক, তারপর প্রতিক্রিয়া দেখাব। দেখবেন মেজাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকছে। এখানেই শেষ নয়, দেখা গিয়েছে মোট ১২ মিনিট পর্যন্ত এভাবে উত্তেজনার তাড়না নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আর ঝামেলা করার ইচ্ছেই থাকে না।
যে পরিবেশে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেই পরিবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসুন যেমন, ঘরে চারজন মিলে ঝগড়া হচ্ছে। পারলে প্রথমেই বেরিয়ে আসুন সেখান থেকে। দেখবেন সমস্যা হচ্ছে না।
বেশ কিছু খাদ্য আছে যেগুলি মাত্রাতিরিক্ত হারে গ্রহণ করলে হজম হতে দেরি হয়। ফলে আমাদের মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অর্থাৎ খাদ্য গ্রহণ শোষণ এবং আত্তীকরণের যে প্রক্রিয়া তা ঢিমে হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে মাংস, রসুন, পেঁয়াজের কথা বলা যায়। এছাড়া ভাজাভুজি, ফাস্টফুডের কথাও বলা দরকার। এমনিতে শীতকালে আবহাওয়ার কারণে আমাদের শরীরের মেটাবলিক রেটের একটা ভারসাম্য থাকে। ফলে ফ্যাটজাতীয় খাদ্য খেলেও হজম হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালে এই প্রক্রিয়া বাধা পায়। এই কারণে ভাজাভুজি বা ফ্যাটজাতীয় খাদ্য খেলে দ্রুত হজম হয় না। মেটাবলিজম প্রক্রিয়া ঢিমে হলে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয় যা পরোক্ষে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভকে উদ্দীপিত করে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভের সঙ্গে ব্রেনের সরাসরি যোগ রয়েছে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ উদ্দীপিত বেশ কিছু প্যারাসিমপ্যাথেটিক হর্মোন ক্ষরণ হয়। এই হর্মোনগুলির কারণে আমরা আবেগ ধরে রাখতে পারি না। রাগ প্রকাশ করে ফেলি। অতএব আমাদের দেখতে হবে কোন কোন খাদ্য প্যারাসিমপ্যাথটিক নার্ভকে উদ্দীপিত করে তোলে?আরও পড়ুন : প্রতিদিন হাঁটার পরও ওজন কমে না কেন? আরও পড়ুন : সকালে উঠে হাঁটতে বয়স্ক ব্যক্তিরা এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন
মাংস, পেঁয়াজ, রসুন ছাড়াও আরও কিছু খাদ্য আছে যেগুলি প্যারসিমপ্যাথেটিক নার্ভকে উদ্দীপিত করে যেমন লঙ্কা এবং ক্যাপসিকাম। এই ধরনের খাদ্যের মধ্যে থাকে ক্যাপসাসিন নামে উপাদান। খেয়াল করলে দেখবেন, ব্যথার স্প্রে এবং মলমে থাকে ক্যাপসাসিন উপাদানটি। এই উপাদানটির থাকার কারণেই ত্বকে এই ধরনের ব্যথানাশক মলম এবং স্প্রে প্রয়োগ করলে ওই জায়গাটি গরম হয়ে ওঠে এভং জ্বালা জ্বালা করে! ঠিক এই কারণেই লঙ্কা এবং ক্যাপসিকাম জাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে আমাদের অস্বস্তি হয়। কারণ ক্যাপসাসিন পাকস্থলীর দেওয়ালে পীড়ন তৈরি করে। এছাড়া নাইট্রেটজাতীয় খাদ্য প্যারাসিমপ্যাথটিক নার্ভকে উদ্দীপিত করে তোলে। যে কোনও ধরনের মাংসে নাইট্রেট বেশি থাকে।
এছাড়া লবঙ্গ, দারচিনির মতো মশলা মাত্রাতিরিক্ত হারে খেলেও আমাদের শরীরে অস্বস্তিভাব প্রকট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এমনিতে দারচিনি লবঙ্গের মতো মশলায় যে এসেনশিয়াল অয়েলগুলি থাকে সেগুলি শরীরের পক্ষে ভালো। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কোনওকিছুই শরীরে পক্ষে ভালো হতে পারে না। ফলে স্টমাকে এই ধরনের এসেনশিয়াল অয়েল বেশি পরিমাণে ঢুকলে পীড়ন শুরু হয়। এই পীড়নকে প্রতিহত করার জন্য প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভকে উদ্দীপিত হতে হয়। আর প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভের সঙ্গে যোগ রয়েছে ব্রেনের। তাই মাত্রাতিরিক্ত মশলাদার খাবার খেলে তা পরোক্ষে মাথা গরমের কারণ হতে পারে।
প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ উদ্দীপিত হওয়ার পিছনে আরও একটি কারণ হল, ঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া। খেয়াল করলে দেখবেন খিদে পেলে আমাদের খুব অস্থির লাগে। এর কারণ হল, আমাদের ব্রেনে হ্যাংগার সেন্টার আছে। খাদ্যের অভাবে যত এই হ্যাংগার সেন্টার উদ্দীপিত হবে তত বেশি আমাদের শরীরে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ উদ্দীপিত হবে।
প্রশ্ন হল, হ্যাংগার সেন্টারের সঙ্গে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভের যোগাযোগটা ঠিক কোথায়? খুব সোজা। আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকলাপ সঠিকভাবে চালাতে দরকার গ্লুকোজের। বিশেষ করে ব্রেনের কোষগুলিতে প্রতিনিয়ত গ্লুকোজের সরবরাহ থাকা দরকার। তাই শরীর চায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে। এদিকে গ্লুকোজ মেলে খাদ্য থেকে। কিন্তু কোনও কারণে দেহে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে শরীরের কাজকর্ম চালানো মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই তখন প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ু উদ্দীপিত হয়। কারণ প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ উদ্দীপিত হলে তবেই গ্লুকাগন নামে হর্মোন নির্গত হয়। এই হর্মোন তখন শরীরের বিভিন্ন জায়াগায় জমে থাকা (লিভার ও পেশি) গ্লাইকোজেনকে রূপান্তরিত করে গ্লুকোজে। ঠিক এই কারণেই তাই গ্রীষ্মকালে নুন-চিনির জল পান করতে বলা হয়। নুন লাগে কারণ গ্লুকোজ একা শরীরে শোষিত হতে পারে না। নুনের অনুষঙ্গের প্রয়োজন হয়। তবে সবার পক্ষে নুন চিনির জল বারবার পান করা সম্ভব নয়। কারণ বার বার নুনচিনির জল পান করলে বাড়তি গ্লুকোজ শরীরে ঢোকার আশঙ্কা থাকে যা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইডস-এর মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে ঘণ্টাদুয়েক অন্তর মরশুমি ফল খান।
কী খাবেন—
মেলাটোনিন, সেরাটোনিন জাতীয় উপাদান যে ধরনের খাদ্যে বেশি থাকে, সেগুলি আমাদের মনমেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। মেলাটোনিন এবং সেরাটোনিন আমাদের ভালো এবং গভীরভাবে ঘুমোতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের স্নায়ুর সমস্যা দূরে থাকে। মেজাজও ভালো থাকে। দুধে মেলাটোনিন বেশি থাকে। তবে গরমের সময় ঠান্ডা দুধ খাওয়াই ভালো। এছাড়া কাঁঠালি কলাতেও মেলাটোনিন থাকে বেশি। আলু ও ভাতেও রয়েছে মেলাটোনিন। এই কারণে পেট ভরে ভাত খেলে ভালো ঘুম হয়।
পর্যাপ্ত জল পান করবেন। তবে এই সময় দরকার ফল খাওয়া। কারণ ফলে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেমেন্ট। এই উপাদানগুলি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যাও দূরে রাখে। তাই এই সময়ে কাঁচা আম, বেল, তরমুজ, জামরুল, কালোজাম খেতে পারেন। বেলে থাকা উপকারী ফাইবার যা শরীর টক্সিক পদার্থ বের করে দিতে সক্ষম। এছাড়া খেতে পারেন পাতিলেবু। পাতিলেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড আমাদের মেটাবলিক সাইকেল ঠিক রাখার ক্ষেত্রে কার্যকরী। মেটাবলিক সাইকেল ঠিক থাকলে চট করে ক্লান্তি আসে না। গ্রীষ্মকালে ক্লান্তি দূরে রাখা দরকার। কারণ মারাত্মক ক্লান্তি থেকেও বিরক্তি আসে আমাদের। চরম শ্রান্তিও প্যারসিমপ্যাথেটিক নার্ভ উদ্দীপিত করার পিছনে অন্যতম অনুঘটক।
শাকসব্জি খান বেশি করে। শাকসব্জিতে থাকা উপকারী ফাইবার ও ভিটামিন মেটাবলিজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। শরীর থেকে টক্সিক পদার্থ দূর করে। শরীর ঝরঝরে থাকে। মেজাজও ভালো রাখে।
খেতে পারেন লাল চা ও দই। কারণ চা’য়ে থাকে এল-থিয়ানিন। এই যৌগটি স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে দইয়ে থাকে ট্রিপটোফ্যান নামে অ্যামাইনো অ্যাসিড যা স্নায়ু ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক