সর্বশেষ সমাচার

জ্ঞানের চক্র : দুই

.$posted_by. মোঃ শহর আলী 27.May.2019; 11:36:49

মানুষদের বাবা ভাল মানুষ ছিলেন, তাই মানুষ ভাল মানুষ হতে চায়। শুধুমাত্র একটা ভাল মানুষ হয়ে জন্মানোর কি দরকার ছিল? তাদের বাবা তো ভাল মানুষ ছিলেনই, আবারো তার পুনরাবৃত্তি কেন? এটাই হচ্ছে জ্ঞানের চক্র। ভাল মানুষ হওয়ার জ্ঞানের চক্র।

তাহলে মানুষ তো চক্রের বাইরে নয়! যেমন পানি চক্র। সমূদ্রের পানি বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে, মেঘ হয়ে ভেসে বেড়ায় দেশে দেশে। বষ্টি হয়ে নেমে আসে ভুমিতে। আবার নদী নালা দিয়ে সমূদ্রেই ফিরে যায়। একই ভাবে কার্বন চক্র। এই কার্বন জীব দেহ গঠন করে আবার প্রকৃতিতে মিলিয়ে যায়।

শুধু বাবার দিকে না তাকিয়ে নিজের দিকে তাকালে অনুভব করতে পারবেন যে আপনার ভিতরে অনেক কিছু লুকিয়ে আছে। ভেবে দেখুন তো একজন দিন মজুর সারাদিন পরিশ্রম করে শুধু দুবেলা দুমুঠো খাদ্যের জন্য। কিন্তু তাকে যদি অক্সিজেন কিনতে হতো সে কি করতো! এই প্রকৃতি মানুষকে সবকিছু দিয়েছে। একটি শিশুকে তার বাবা যখন মজার মজার খাবার কিনে দেয়, সে তা কত ঢঙ করে খায়, চেটে খায়, চুষে খায়, চিবিয়ে খায়, আবার একটু রেখে দেয় পরে খাবে বলে। কিন্তু পরে আর খেতে পারে না, কারণ পিঁপড়েয় খায়।

মানুষের খাদ্য তো প্রকৃতিই উৎপাদন করে। যারা জীববিজ্ঞান পড়েছেন তারা বিষয়টি ভাল জানেন। প্রকৃতির দানের এই খাদ্য কিনে খাওয়ার জন্য মানুষ কি না করছে? ভাই ঠকায় ভাইকে, ভাই ঠকায় বোনকে। মানুষ ঠকায় মানুষকে। মানুষ ঘুষ খায়, জনগনের টাকা লুটে খায়, জুয়া খেলে টাকার পাহাড় তৈরি করে। অবুঝ শিশুটির মতো এই টাকা রেখে দেয়, যেন আবারো জন্ম নিবে পৃথিবীতে তখন খাবে, কিন্তু তা খেতে পারে না, ইঁদুর বাঁদরে খায়। তার দেখারও কোন ক্ষমতা থাকে না। দেখবে কিভাবে? তার শরীর তো মিশে যায় মাটিতে, যা দিয়ে তাকে তৈরি করা হয়েছিল।

সমাজে ছোট্ট ছোট্ট মানুষেরা ছোট্ট ছোট্ট মানুষ জন্ম দিচ্ছে অহরহ। তারা আবার আরো ছোট্ট মানুষ জন্ম দেয়ার কথা ভাবছে। শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। ছোট্ট মানুষ জন্ম দেয়ার প্রতিযোগিতা। মানুষ ছোট হতে হতে এমন ছোট হছে যে, একদিন ছাগলে ভুলে ঘাসের সাথে খেয়ে ফেলবে, দেখতেও পারবে না।

আর ছোট্ট খোকাটি থেকো না সোনা! বড় হও। তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছ শুধুই কি অবৈধ উপায়ে টাকা কামানোর জন্য! নাকি বড় হওয়ার জন্য?

বড় হও ধনে, বড় হও মানে, তার চেয়েও বড় হও জ্ঞানে। জেনে নিও তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে জ্ঞান দিয়ে। তোমার মাথার খুলির নিচে যে অমূল্য ধন লুকানো আছে তা আর কোন প্রাণীর নেই। এতো বড় হাতি, এতো বড় নীল তিমি, বাঘ, ভালুক, সিংহ কেউই প্রকৃতিকে জয় করতে পারেনি। জয় করেছে মানুষ। তুইওতো মানুষ। তবে কেন জীব জন্তুর মতো বেচেঁ থাকতে চাও?

তুমি আরো খেয়ে শরীরে বড় হতে চাও? কত বড় হবে তুমি? হাতির সমান তো হতে পারবে না। তবে কেন শরীরে বড় হওয়া! তোমার তো মস্তিষ্ক আছে। সেখানে লক্ষ কোটি কোষের অন্তরালে বাইনারী সংখ্যা দিয়ে কোডিং করা আছে সবকিছু। অপারেটিং সিস্টেম সহ কিছু হালকা অ্যাপস ইনস্টল করা আছে সেখানে। শুধু সেগুলো ব্যবহার করে তুমি একটা বানরের চেয়ে সামান্য উচু জাতের প্রাণী হতে পারবে, তার বেশি নয়। তোমাকে আরো বেশি সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে মস্তিকে। শুধু সফটওয়্যার ইনস্টল দিলেই হবে না, নিজেকে নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি করে নিতে হবে নিজের কাজের জন্য।

হ্যাঁ সফটওয়্যারের কথাই বলতে চাই। ভাল মানুষ হওয়ার সফটওয়্যার, ধার্মিক হওয়ার সফটওয়্যার, নাস্তিক হওয়ার সফটওয়্যার, ডাকাত হওয়ার সফটওয়্যার, সংসারী হওয়ার সফটওয়্যার ইত্যাদি ইত্যাদি। বাজারে এরকম বহু সফটওয়্যার কিনতে পাওয়া যায়, ভাড়া পাওয়া যায়। কোনটা কিনতে চাও তুমি? তোমার বাবা মা যেটা চান সেইটা, অথবা তোমার অবচেতন মন যেটা চায় সেইটা।


আরও পড়ুন : ছাত্র-জনতা পরিষদ নামে কী নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হচ্ছে?
আরও পড়ুন : সাপের নাম রাসেল ভাইপার কেন

এর জন্য কিছু জাভা সফটওয়্যার ও আছে, যেটা তোমার গুরুজন বলে দিয়েছেন। যেমন বড় বড় মানুষের জীবনী, উদ্যমী হওয়ার জন্য কিছু বই। যা পড়ে পড়ে তুমি প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করে চলছো তোমার মস্তিষ্কে।

আচ্ছা, সফটওয়্যার কিভাবে কাজ করে? যে কাজের জন্য যে সফটওয়্যার সেটি সেই কাজটিই করে। অন্য কাজতো করতে পারে না। কম্পিউটার এতো কিছু করতে পারে কিন্তু তার তো কোন প্রজ্ঞা নেই। নিজের জ্ঞান দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করতে পারে না কোন সফটওয়্যার। কাজেই তোমার মস্তিষ্কে ইনস্টল করা ভাল মানুষ হওয়ার সফটওয়্যার টি তোমাকে একটা ভাল মানুষ বানাতে পারবে। কিন্তু তোমাকে অন্য কিছু বানাতে পারবে না। যতই তুমি এপিজে আব্দুল কালামের জীবনী পড় না কেন তুমি এপিজে আব্দুল কালাম হতে পারবে না। হ্যাঁ তুমি তাঁর চেয়েও বড় কিছু হতে পারো। তবে তার জন্য শুধুমাত্র ভাল মানুষ হওয়ার সফটওয়্যার এর উপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না।

বার বার ভাল মানুষের কথা চলে আসে। ভাল মানুষ কাকে বলে। তুমি যে জ্ঞানের চক্রের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছো সেই জ্ঞানে তুমি একজন ভাল মানুষ হতে পারো। কিন্তু জ্ঞানের চক্র তো একটা নয়! ভাল মানুষের সংজ্ঞা বিভিন্ন সফটওয়্যারে বিভিন্ন রকম।

যেমন,

আপনার মামা আপনাকে চাকুরীটা দিয়েছেন। আপনার মতে তিনি একজন ভাল মানুষ। অথচ তিনি তো একজন যোগ্য মানুষের চাকুরীটা অবৈধভাবে আপনাকে দিয়েছেন।

আপনার গ্রামের এক ছেলে গ্রামে মসজিদ দিয়েছে, অনেক দান খয়রাত করছে। আপনার সফটওয়্যার বলছে তিনি একজন ভাল মানুষ। কিন্তু তিনি তো দেশের টাকা লুট করে কোটি পতি হচ্ছেন সেদিকে কারো মাথা ব্যাথা নেই।

অং সান সূচী রোহিঙ্গাদের মেরে কেটে দেশ ছাড়া করেছে। মায়ানমারের মানুষের মস্তিষ্কের সফটওয়্যারের মতে তিনি একজন ভাল মানুষ। কিন্তু বিশ্ববাসী তো তা মনে করে না।

কাজেই আপনার ইনস্টল করা সফটওয়্যার অনুযায়ী আপনি ভাল মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছেন। অখচ শুধু ভাল মানুষ হওয়াই মানব জীবনের চরম স্বার্থকতা নয়।

এ বিষয়ে আরো খবর