সর্বশেষ সমাচার

জ্ঞানের চক্র : এক

.$posted_by. মোঃ শহর আলী 27.May.2019; 11:22:02

বড় বড় মনীষীদের জীবনী আর উৎসাহব্যঞ্জক বই পড়ে যারা চুল পাকাচ্ছেন তাদের চিন্তা চেতনা একটি চক্রের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ মূলত একটি চক্রকে কেন্দ্র করেই সবকিছু চিন্তা করে, এর বাইরে যেতে পারে না। বাইরের জগতের যা যা এই চক্রের মধ্যে পড়ে তা ই শুধু সে গ্রহণ করে, অন্য সবকিছু বর্জন করে। যেমন একই মাটিকে জন্মানো একটি নিম গাছ ও একটি খেজুর গাছ। নিম গাছ মাটির রস ও খনিজ পদার্থ গ্রহণ করে সালোক সংশ্লেষনের মাধ্যমে তার সবুজ পাতায় এমন সব খাদ্য রান্না করে যা সর্বদা তেতো স্বাদযুক্ত। আবার খেজুর গাছ যা রান্না করে তা মিষ্টি, খেজুরের রস ও পাকা খেজুরই তার প্রমাণ।

একই সমাজে বসবাসকারী মানুষের চিন্তার ধরনও ভিন্ন। কেউ তেতো স্বাদের চিন্তা করেন আবার কেউ মিষ্টি স্বাদের চিন্তা করেন। বিচিত্র স্বাদের ও গন্ধের চিন্তা করে মানুষ। অনেকেই মনে করেন তিনি ভীষণ জ্ঞানী, আবার অনেকেই মনে করেন তিনি বেশী জ্ঞানী নন। যিনি তাঁর চিন্তার চক্রের মধ্যকার রস ও খনিজ পদার্থ বেশি আহরণ করেন এবং তা দিয়ে তাঁর মনের মতো স্বাদযুক্ত জ্ঞান রান্না করতে পারেন তিনি নিজেকে বেশি জ্ঞানী ভাবেন।

জ্ঞানের সমূদ্রের গভীরতা নিয়ে ভাবতে মানুষ পছন্দ করে না। যেমন পুকুরের মাছ পুকুরের সমস্ত আনাচে কানাচের খবর জানলেই নিজেকে জ্ঞানী ভাবে অথচ উপসাগর, সাগর, মহাসাগর দূরে থাক ছোট একটি নদী সম্পর্কে ও তার কোন ধারণা নেই।

মানুষ এই চক্রের মধ্যে কেন বসবাস করে? এর কারণ মানুষ যা বিশ্বাস করে, যা ধারণ করে তার অধিকাংশই তার মুখস্ত। কোন প্রকার যাচাই বাছাই না করে তিনি তা গ্রহণ করেছেন, সত্য বলে মেনে নিয়েছেন, সেখানে কোন দ্বিধা, দ্বন্দ্ব করাটা তিনি পছন্দ করেন না। কেউ সেদিকে আঙুল তুললে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। যার ফলে তাঁর এই বিশ্বাসের বাইরে তিনি যেতে পারেন না।

ভেড়ার পাল সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবার জানা আছে। পালের সর্দার যেদিকে যায় অন্য ভেড়াগুলোও সেদিকে যেতে থাকে। যদি ভুলক্রমে সর্দার পাহাড়ের ঢালে গড়িয়ে পড়ে যায় তখন তার পিছনে পিছনে আরো অনেক ভেড়া কোন চিন্তা না করেই নিচে পড়ে যায়। তেমনি চিন্তার জগতের এই এক একটি চক্রের যারা সর্দার তাদেরকে অন্ধভাবে অনুসরন করাই মানুষের জ্ঞান চর্চার মূল জায়গা।

হে ভেড়ার পালের তরুন যুবকটি! তুমি একটু এদিকে এসো। তোমার ডান পাশে আমি, বাম পাশেও আমি। আমার দিকে এসো। দেখে যাও কি বিচিত্র এখানকার ভুমি। এখানে আছে সবুজ উপত্যাকা, লতা গুল্মের বন, পাহাড়ী ছোট্ট ঝরণা, চকচকে পাথর, পাখির গান। আরো দূরে ঘূরে এসো তুমি। সেখানে গাছে গাছে বানরেরা খেলা করছে, নিচে ক্ষুধার্ত বাঘ হা করে তাকিয়ে আছে। আরো আরো দূরে ঘুরে এসো তুমি। সেখানে পর্বতের গায়ে বরফ জমেছে, মেখ ছুয়েচে পাহাড়ের গায়ে। ঐ দূরে তাকিয়ে দেখো, দেখতে পাচ্ছ নিশ্চয়ই, সেখানে গরম পাহাড়ের জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে গলিত লাভা। ভয় পেলে কিছুই দেখতে পারবে না তুমি। এই জগৎ সংসারে একবারই জন্ম নিয়েছ। এসব তোমাকে দেখতেই হবে। তা না হলে তোমার জন্ম বৃথা। ঐ পালের মধ্যে ঘুরে বেড়ালে তো কিছুই দেখতে পারবে না।


আরও পড়ুন : ছাত্র-জনতা পরিষদ নামে কী নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম হচ্ছে?
আরও পড়ুন : সাপের নাম রাসেল ভাইপার কেন

যদি তুমি ভেড়ার পালের মধ্যেই ঘুরে বেড়াতে চাও, তবে তোমার বেঁচে লাভ কি? যুগে যুগে তোমার মতো লক্ষ কোটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে, আবার মারাও গেছে। ধরে নাও তুমিই তাদের মধ্যে বার বার এসেছিলে। হ্যাঁ এসেছিলে তো! আমি তো দেখেছি। তোমার এই একই অবয়ব। একই গায়ের রঙ, একই রকম কান, চোখ, শিং। তাহলে এখানে কি করছো তুমি। তোমার বেঁচে থাকার দরকার কি? যদি জ্ঞানের রাজ্যের উর্বর উপত্যাকার তোমার পায়ের চিহ্ণ না পড়ে তাহলে তোমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে প্রকৃতিতে। তোমার মৃত্যুর পর তোমার শরীর তার মূল উপাদান কার্বন, পানি, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আয়রণ, জিঙ্ক ইত্যাদি তার উৎস স্থলে গিয়ে প্রকৃতিতে মিশে যাবে। তোমাকে কোথাও খুঁজে পাবো না আমি। আমি তোমার পদচিহ্ণ বুকে ধারণ করে তোমায় স্মরণ করতে চাই, বাঁচিয়ে রাখতে চাই তোমার অস্তিত্বকে।

 

এ বিষয়ে আরো খবর