সর্বশেষ সমাচার

শপথ না নিলে ভুল করবে বিএনপি!

.$posted_by. মোঃ শহর আলী 22.Apr.2019; 03:15:59

বিএনপিরস্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  বলেছেন, সংসদে যাওয়া তো দূরের কথা, তার আশপাশ দিয়েও হাঁটবেন না। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলে দেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নেতারা বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির দাবি তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রমাণ করছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপিকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, শপথ না নিলে বিএনপির আমও যাবে, ছালাও যাবে।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে 'ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার সভাপতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ২৬ এপ্রিল মতিঝিলে সমবেশের ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ১৪ দলের লড়াই শুধু বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে নয়। ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধ, মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে মতিঝিলে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাত হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খুন, ধর্ষণ, ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মাঠে থাকবে ১৪ দল। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের ঘটনায় সংশ্নিষ্ট থানার ওসির ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কারও অতি আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা। তিনি বলেন, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতারা দলের অনেক ক্ষতি করছে। এরা বিএনপি-জামায়াতের প্রেতাত্মা। এমন দু'একজনের জন্য দল ও সরকারের সব অর্জন ম্লান হতে দেওয়া যায় না। ফেনীর ঘটনায় একজন ওসি কীভাবে খুনিদের আশ্রয় দেন? এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।


আরও পড়ুন : সারাদেশে শয়তানের খোঁজ চলছে, ধরা পড়ল কত!
আরও পড়ুন : ১০ নভেম্বর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনা

বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, তাদেরকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আন্দোলনে নেই, ভোটের মাঠেও নেই। এখন সংসদে না এলে তারা সব হারাবে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন না করে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়। যারা জাতীয় দিবসগুলো পালন করে না, তারা কী করে স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি-জামায়াতকে ১৪ দল পরাজিত করলেও পুরোপুরি সফলতা আসেনি। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এখনও।বিএনপির সংসদে যোগ দেওয়া ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে চলেছে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা মুজিবনগর দিবস পালন করে না, তারা পাকিস্তানের দালাল। পাকিস্তানপন্থি বিএনপি মুজিবনগর দিবসকে অস্বীকার করে। জামায়াত ও জঙ্গিবাদকে এই বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা করে।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস যারা পালন করে না, তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে পারে না। হঠাৎ স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এই পটভূমি বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, জিয়া কারফিউ দিয়ে দেশ চালিয়েছেন। তার মধ্যেও কোনো কোনো বুদ্ধিজীবী গণতন্ত্র খুঁজে পান। আসলে বিএনপি নামের এই দলটি তৈরি করেছিল পাকিস্তান। এ দলের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা।

 

সূত্র: সমকাল

এ বিষয়ে আরো খবর